রাত

রাত ভোর হলে আমি তোমাকে চাই। সন্ধ্যের পাখি নীড়ে ফিরে তোমাকে চায়। রাত্রিতে মাচায় বসে চাঁদের আলো তোমাকে চায়। দিনের শুরুটাতে হৃদয় এ পদ্ম নিয়ে তোমাকে চাই। দিনের শেষভাগে সন্ধি হয় দুজনে তাইতো তোমাকে চাই।

তোমাকে চাইতে গিয়ে

তোমাকে চাইতে গিয়ে বারে বারে নতুন করে নিজেকে চেনা হৃদয়ের সাথে প্রতিনিয়ত কথোপকথন, বারংবার নিজেকে জিজ্ঞেস করা, নিজের সক্ষমতা যাচাই সুবিধা একটাই, খুব বেশি কষ্ট পেতে হয় না। একটা নতুন জগত হয়েছে, সেখানে আপন মহিমায় তুমি বহমান। স্বর্গীয় স্রোতধারা তোমাকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে হৃদয়ের আনাচে কানাচে। নিজের ভেতরে একটা নতুন পৃথিবী…

চাঁদের আলো পানসে লাগে

আরো ভালো আমি বাসতে চাই তোকে মনের গভীরে নিয়ে ভাসতে চাই তুই ছাড়া একলা আকাশ গল্প সাজাই এই জীবনে। রংধনুটা আজ সাদা মাটা তুই ছাড়া এই ভুবনে। আরো কাছে তোকে রাখতে চাই খুব গোপনে তোর সঙ্গ চাই। তুই ছাড়া আজ চাঁদের আলো একেবারেই পানসে লাগে তুই ছাড়া আজ রাতের আকাশ…

ছুঁয়ে যা

ছুঁয়ে যা তুই মনের দেয়াল খুলে দিয়ে দ্বার খানিক থেকেই ফিরে আসিস সন্ধেবেলা আবার। তোর দুচোখে আকাশ দেখে চাঁদ নামাবো বেশ রাতের আলো থাকবে তখন ভোর বেলাতে শেষ। মাঝ পুকুরে নউকো জুরে তুই আর আমি মিলে জোনাক পোকা সংগী হবে নাও ভাসিয়ে দিলে।

লজ্জা

শাড়ির ফাঁকে মুখ লুকিয়ে লজ্জা লজ্জা নিয়ে প্রেম চোখে তাকিয়ে থেকে হরন করে দিয়ে মনটা আমার বাধা আছে শাড়ির আঁচলে মায়া ভরা মুখখানিতে আদরগুলো মিলে।

হুতুম পেঁচার ডিম

হুতুম পেঁচা ডিম পেড়েছে তা দিয়েছে কাক, ডিম ফুটে তাই বাচ্চা হলো দিচ্ছে পেঁচার ডাক। কাকের বেজায় দুঃখ হলো বাচ্চা কালো নয়, তবে কি ভাই জাত গেলো আজ? করছে ভীষন ভয়। সকাল বিকাল তা দিয়েছি কান্না পাচ্ছে ভারী। হুতুমটাকে ডেকে এনে দিয়েই দিবো আড়ি। যেই না ভাবা অমনি করে ডাক পাঠালো…

শুন্য হয়ে যায় শুন্যতায়

খুব করে জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নিয়ে বুকের কাছে জমা কষ্ট এক নিমিষে শুন্য হয়ে যায় শুন্যতায়, নীল আকাশ জুড়ে রাশি রাশি কালো মেঘ। স্পর্শ ব্যাথা ভুলিয়ে দেয়। অভিমানিনী শুন্য হাতে ফিরিয়ে দিও না এসেছি জড়াতে বুকের খুব কাছে। স্পন্দন টের পেতে চাই রোজ রাতে। আপন হৃদয় আঙিনায় স্বপ্নময় রংধনু…

স্মরি তোমায় অহর্নিশি

সংকটে আর সংকোচে স্মরি তোমায় অহর্নিশি, হৃদয়ের কুন্ঠারাশি বিষবাঁশি বাজাইছে। দূর হতে অন্ধ মেঘ ঐ আশে ধেয়ে ধীর লয়ে নিকট হতে সন্নিকটে সময়ের ভেলায় ভেসে যতই আসুক দুঃখরাশি তুমি যদি থাকো পাশে হৃদয় আমার পাষাণ ভারি ভয়ের বিন্দু লেশটুকু নেই অস্তিত্ত আর জীবদ্দশায় উপস্থিতি অবিসম্ভাবি, চাইছি দিবানিশি তোমার সঙ্গ; সাহসটুকু সঞ্চয়ে পার…

সংকোচে জানাই

সংকোচে জানাই আজ একবার মুগ্ধ হতে চাই তাকিয়েছি দূর থেকে এতোদিন প্রকাশ্যে বলিনি। এতোদিন সাহস ছিল না কোন ঝরনা জলে লুন্ঠিত হবার আজ দেখি অবগাহনের কাল পেরিয়ে চলেছি দিনে দিনে। – অজয় গোস্বামী

দেয়ালে জমে থাকা প্রেম

মুহূর্তগুলো কেটে যায় এক নিমিষে, ভাবনারা অতলে হারিয়ে যেতে চায়, স্বপ্নরা দিক্বিদিক ছুটোছুটি প্রাণ, চোখের নিমিষে মুহূর্ত বিদেয় হয়। সময়ের পেছনে দে ছুট পাল্লা দিয়েও হয় না। স্মৃতিরা অতি দ্রুত জন্ম নেয়। চোখের কোনে জমে থাকা জল, এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্পর্শগুলো, দেয়ালে জমে থাকা ছোপ ছোপ ভালোবাসা, চোখের পাশ দিয়ে…

তুই দিন দিয়ে যা

তুই দিন দিয়ে যা রাত টুকুও থাকবে কেন বাকী? জেনে রাখিস ভালোবাসায় একটুও নেই ফাঁকি। সকাল হলেই দিনের শুরু সন্ধ্যে থেকে রাত ভাবনা গুলো এলোমেলো সাঁঝ থেকে প্রভাত। জীবন নামের পাগলা ঘোড়া ছুটছে দিবানিশী ছোঁটার মাঝেই তোকে নিয়ে ভাবছি অহর্নিশি। সন্ধ্যে তারার গল্পগুলো রাত জেগে শুনছি চাঁদের আলোয় স্পষ্ট তোরে…

নিস্তব্ধতা

নিস্তব্ধতা বড্ড কষ্ট দেয় প্রতিনিয়ত আসলে বেশি দিতে নেই। সময় খুব স্বার্থপর, তাকে যতই দেয়া হবে পেছন ফিরেও চাইবে না। অদ্ভুত  এ সময়, আমি চাই বার বার ফিরে যেতে প্রিয় ক্ষণে তোমার স্পর্শ পেতে। কে শোনে কার কথা? বড্ড স্বার্থপর, কিছুতেই ছুঁতে দেয় না। ব্যাকুলতা ঠিক আগের মতই বরং বাড়ছে রোজ রাতে…

মনকে শুধাই আমি বারে বারে

মনকে শুধাই আমি বারে বারে সে কি শুন্যতা সইতে পারে? উত্তরে শুধায় আমারে শান্ত রহো হে পথিকবর সম্মুখে ঘনিছে আঁধার রাত আশু ভোরে দিনের আলোয় দূর হয়ে যাবে নিকষ কালো। শুন্যতা হয় রোজই হবে পূর্ণতা কি প্রতিদান পাবে? মনের উপর জোর করে কি বিশাল আকাশ পূর্ণ হবে? নীলচে রঙের নানান আঁচর…

পথে পথে চলতে চলতে

পথে পথে চলতে চলতে হঠাত তোমায় খুঁজে পেলাম সঙ্গী করে দূরের পথে তোমায় নিয়ে হেঁটে এলাম। তুমি আমার দিনের শুরু, রাত্রিতে যার শেষ সকাল হলেই আবার আমি খুঁজতে থাকি বেশ। স্পর্শ গুলো জড়িয়ে ধরে হাঁটছি আজও আমি চোখের নেশায় কাটিয়ে দেবো জানেন অন্তর্যামী। হৃদয় জুড়ে তোমার ছোঁয়া কাটছে সময় বেশ অনন্তকাল ভালোবাসার রয়ে…

পরাজিত তেজ

দিন রাত এক করে ভাবছি তোমায়, শীতের রাত্রি হতে কুয়াশা ভেজা সকাল, হিম হিম ঠান্ডায় হাড় কাপানো অনুভুতি. রোদের পরাজিত তেজ ছড়িয়ে গাছের ফাঁকে তীরের ফলার মত সূর্যের আলোর খেলা দিনভর। আমি ভাবছি তোমায় তবুও. তোমার স্পর্শ হৃদয়ে কাঁপন ধরায়, মায়ায় জড়িয়ে ফেলে আলগা বাঁধন, জড়িয়ে ধরে বাচতে চায় এ হৃদয়….

কচুরিপানা জীবন

জলের তলায় তোমার বসত কচুরিপানা জীবন শ্যাওলা হয়ে ভাসব আমি অদ্য হতে মরণ। শাপলাগুলো লালচে সাদা নীলচে এথায় হেথায় কলমীলতা, জলের পোকা খেলছে আজি যেথায়। পাড় বাঁধানো ছোট্ট পুকুর সবুজ রঙের জল চাঁদের আলো ঝরে পড়ে করছে জ্বলজ্বল। তোমার আমার দেখা হলো শানবাঁধানো ঘাটে নৌকার গুলুই জল ছুঁয়েছে ছলকে উঠে…

ব্যাকুল এই মন

আর তো পারিনা থাকতে ও আমার জান পাখি। হৃদয় এ রক্তক্ষরণ রোজ তোমাকে কাছে পেতে। ব্যাকুল এই মন, অনুক্ষণ তোমার খোঁজে আচ্ছাদিত সুখের অনুভবে। কি মধুর অপেক্ষায় রত আজীবন। ধরনীর মাঝে অসীম এ ভালোবাসা তোমার তরে হৃদয় ভাসিয়ে নেয়। কতটা ভালোবাসলে বল কাছে পাবো, ছোঁয়ার অনুভুতি সমেত। এ হৃদয় শুন্য…

শূন্যতা

সবই আছে তবুও বুকের মাঝে শূন্যতা কি যেন না থাকার কষ্ট। তোমার চোখে রোজ দেখি তবুও হারিয়ে ফেলার কষ্ট। রোজ তোমায় ভালোবাসি আবার মুহূর্তেই তোমাকে অনুভব করি। তোমার হাঁসি নিত্য দেখি তবুও সেই হাঁসি খুঁজি। কেমন জানি টান পাই হৃদয়ের খুব গভীরে। কিছু হারিয়ে ফেলার ভয়, কিছু না পাওয়ার শূন্যতা।…