কথোপকথন

আমি অদেখারে করেছি গোচরে ধারণ অব্যাক্ত হয়েছে কথোপকথন অস্পৃশ্যতা ছুঁয়েছে অস্থিত্য। তাই তোমারে পেয়েছি হৃদয় মাঝে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে তোমারে একুল, ওকুল, ব্যাকুল মনে গভীরে তোমারে নিয়াছি ভীশন। একাল, সেকাল, আর জন্ম দারুন প্রয়োজন হে নিশ্চিত।

বৃষ্টি তুমি

টিপটিপ ফোঁটায় ঝরছো তুমি ভীষণ ধারায় যাচ্ছো ধুয়ে। ভিজছি আমি শুরু থেকেই ভিজছে আমার হৃদয়পুর। সিক্ত আমি তোমার ছোঁয়ায় আঁখিপটে জলের ফোঁটা। উঠোনজুড়ে জলের খেলা ভেজা আমার আশেপাশ। অথই প্রেম উপচে পড়ে ভরে গেছে মাঠঘাট। তোমার চোখে সন্ধ্যে নামে কাটছে এখন বারমাস। বৃষ্টি আমার ভীষণ প্রিয় তাইতো এতো বৃষ্টিবিলাস। তুমি…

নগ্ন সর্বনাশ

তোমার অধর ছুঁয়ে নামতে পারি নিম্নে আরো। ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসি অল্প আমন্ত্রণ ছুঁয়ে দিয়ে আলতো করে নিচের পেলাব ঠোঁট অসহ্য এক সুখ ছুঁয়ে যায় সারা গত্রময় ঠোঁটের উপর ঠোঁট ছুঁয়ে যায় আঙ্গুলগুলো তাই তোমার কোমল হাত ছুঁয়েছে সেই কখনটায়। গালের উপর টোল পড়ে তাই লক্ষ আদর এঁকে বক্ষে তোমার…

হেয়ালী

তোমার চোখে চেয়ে দেখি এই স্বপ্নগুলো কি খেয়ালে তুমি করছো হেয়ালী? জানেনা মন জানেন অন্তর্যামী। দেয়ালে আনমনে আঁকিবুঁকি করছি কোন খেয়ালে সাদা রঙ কালো হয়ে স্পষ্টত গোচরে। তুমি বড্ড বেখেয়ালী চেয়ে দেখো আমাকে দিন থেকে রাত ধরে মনপুরে তুমি যে। আমি আছি হৃদয়পুরে চেয়ে দেখো সুদূরে একমুঠো ফুল নিয়ে চেয়ে…

দখল করে নিয়েছো

তোমার ভাবনা জুড়ে আছে পুরোটা মনে একাকার হয়ে আছে স্পর্শগুলো মিলে মিশে গেছে তোমার চলার ধরণ চোখ মেলি বা বুজে থাকি তুমি শুধুই অনুভবে কল্পলোকে হউকনা কিছুটা সময় হারিয়ে গিয়ে বাস্তবে তোমার উপস্থিতি আজ রন্ধ্রে রন্ধ্রে অস্তিত্তে ধারন করি তোমার ছায়া পথ চলতে গিয়ে থমকে আছি পেছন ফিরে চাইতে গিয়ে…

প্রশ্ন

খুব সকালে কখনো কুয়াশা জড়ানো পায়ে হেঁটেছো? রাত্রি জাগা ভোরের আলো গায়ে মেখেছো? চোখ রগরিয়ে আকাশ পানে একবারও কি চেয়েছো? বারান্দায় দাঁড়িয়ে অদ্ভুত পাখির সাথে কথা কি বলেছো? চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বাষ্প দৃষ্টি নিয়ে সুদুরে তাকিয়েছো? হিমেল হাওয়ায় চাদরটাকে জড়িয়ে কি ধরেছ? লেপ্টে থাকা সিদুরটাকে বা হাত দিয়ে মুছতে…

একটা ভেতর জুড়ে

চিত্ত যেথায় উল্লাসিত উচ্চ সেথা প্রেম ধমনীতে বয়ে চলে অনবরত চোরা স্রোত বড্ড অসহায় এ প্রান তোমার তরে তোমার অক্ষি যুগল হৃদয় করেছে হরন চেয়ে থেকে আজ অবধি দিনাতিপাত। একটা ভেতর জুড়ে এই তুমিটার বাস আমি আদি থেকে অন্ত পাগল পরা তোমার দুয়ারে রোজ আমার ভোর হবে।

নীল টিপ

নীল টিপটা জুড়ে দিলাম তোমার কপালে। চোখটা ঠিকঠাক, গাঢ় কালচে, চাহুনীটাও ফুটেছে, বুকের মাঝে তাই ধুকপুকানি হুহু করে বেড়েছে। সিঁথির সিধুরটা বড়ই মধুর আনমনে চেয়ে থাকা ওই অবয়বের মায়ায়। মায়াবী তুমি, হৃদয় হরিণী ভালোবাসি তাই এ চোখ আর মায়া।

অজানা নালিশ

রাতভর জেগে থেকে বালিশে শতশত অজানা নালিশে। চোখের জলে ভিজে যার নীলচে প্রিয় বালিশের কভার। ভোর হয় জেগে থেকে একসাথে নতুন সূর্য উঠে প্রিয় এই প্রভাতে। চেয়ে দেখো আকাশের নীলে নতুন দিনের জেগে উঠার মিছিলে। থাকবো আমি তোমার সাথে ছায়া হয়ে শত দুঃখ কষ্ট, দুই প্রাণ যাবো সয়ে। হেরে যেও…

প্রিয় শব্দ গুলো

প্রিয় শব্দ গুলো আছড়ে পড়ে প্রিয় সমুদ্দুরে প্রতিনিয়িত আবেগ আর টান ছলকে পড়ে এক কাপ ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপ এই মাত্র ছলকে পড়া চায়ের ফোঁটা। হাতে সদ্য প্রয়াত হুমায়ুন’র গল্প সমগ্র, টেবিলে রাখা দিন পনের আগের – এক গোছা ধকধকে সাদা রজনীগন্ধা আজ আর শুভ্রতা নেই, ম্যাড়ম্যাড়ে ফ্যাকাসে আর সুগন্ধীর…

ব্যাকুল

বারে বারে তারে আপন করিয়া লইতে ব্যাকুল, চিত্তে যেথায় বাজে বীণা। আমি আপনারে করি পর বারংবার তোমারে পাইতে আমি দিন হীনা।।

আমার ইচ্ছেরা সব

আমার ইচ্ছেরা সব বৃষ্টি হয়ে নামলো বলে দেয়ালের গা বেয়ে নিন্মে ধাবমান। শ্যাওলা তার জীবন খুজে নেয় জলধারায় নিমগ্ন পোকারা সব হাবুডুবু প্রান। আমার বারান্দা উপচে পড়ে বৃষ্টিধারায় অবহেলায় পড়ে থাকা টবে আজ প্রাণ এলো বলে। কাল সকাল হবে কিনা জানিনা আমি বদ্ধ ঘরে চার দেয়ালে খুঁজে বেড়াই তার উত্তর।…

নক্ষত্ররাজি

সব থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি তোমার নামে ধরবো বাজি। লক্ষ, কোটি, হাজার ফুল দেবো খোঁপায় সাজবে চুল।

পুজিব তোমায়

কোন ফুলে পুজিব তোমায় দিশা খুঁজে পাইনে ভালবাসতে দিও মোরে আর কিছুই চাইনে। ফুলের বাগানে গিয়ে ব্যকুল হয়ে রই তুমি কি বেলী নিবে, না গোলাপ, কামিনী, জুঁই? সাদা ফুলের শুভ্রতা আর গোলাপী আভা লালচে রঙের চোখ ধাঁধানো, হলুদ রঙের শোভা। সবগুলোই হাতে তুলে তোমায় দিতে চাই তোমারে পুজিবে সে ফুল…

মা

মা, মা গো, তুমি কত দূরে থাকো, চাইলেই আর কাছে যেতে পারি না, চাইলেই আর হাত পেতে ছুঁতে পারিনা, পাইনা তোমার গায়ের গন্ধ। আমায় ভালোবাসায় বরাবরই তুমি অন্ধ। অনেক বড় হয়েছি যে মা, তোমার কাছে লজ্জা কি মা? তবুও কেমন বড় হয়ে গেছি চোখে চোখ রেখে হয়না বলা তোমায় ভালোবাসি।…

ভালোবাসতে দিও

আলো যতই দাও মোরে, আধার হয়ে রইবে ভালোবাসা না পাইলে, সহস্র কষ্ট সইবে। তুমি যদি থাকো পাশে, আলোয় ভুবন ভরা ভয় নেই সেই আধার কালো, ভয় নেই তাই জরা। ভালোবাসতে দিও মোরে পরাণটা ভরিয়া রাখিব তোমারে আজিবন হৃদয়ে জড়াইয়া। তুমি আজ ফুল দেখনি, মন খারাপ তাই হাজার রঙের ফুল ফুটেছে,…

আমার প্রাণের বাংলা

আমার সোনার বাংলা, আমার প্রাণের থেকেও বেশী জীবন হয়ত দেইনি আমি, তবুও ভালোবাসি। ফলে, ফসলে হরেক ফুলে রঙ্গিন এই দেশটা নদীর জলে, সাগর কুলে, পাহাড় জুড়ে রেশটা। কি নেই বলো তোমার মাগো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সম্পদ বলো সোনা বলো সবই তোমার আছে। ক্রমিক মানে হয়ে গেছে লক্ষ প্রাণের যুদ্ধ ভাষার…

অজান্তে

অজান্তে আপন মানুষ আপনার হয়ে যায় হিয়ার মাঝে লুকিয়ে থেকে দহন বেলায় শুন্য হতে গিয়েও আজ সিক্ত পূর্ণ হাতে। আপন বেলায় তোমার ছোঁয়া তাতে হৃদয় জুড়ে বিলায় আপনাতে। হৃদ মাঝারে তোমার বাস চন্দ্র তারার সাথে, হিংসুটে তাই অন্য আমি তোমায় ভালোবেসে। ধমনীর রক্ত ধারায় বিন্দু কনা যত হৃদয় উগড়ে, উপচে…

সোনা রোদ

সকালের সোনা সোনা রোদ পথের ধারে, তোমার পায়ে লুটালো। লাল রঙা গোলাপগুলো রোজ ফোটে তুমি আছো বলেই। সকালটা এতো প্রিয় আজ তোমার স্পর্শদোষে। পথের ধুলো যতই তোমাকে মলিন করতে চায় রিদয় তোমাকে ততোই আপন করে নেয়।

অদ্ভুত নগরী

অদ্ভুত এই নগরী বড্ড এলোমেলো রংহীন ইচ্ছেরা বড্ড একেলা। বারান্দায় কাদে নির্ঘুম রাত ধুলোপড়া ফুলের টবে মলীন লাল গোলাপ। একা একেলা মন একাকী জেগে যেদিন চলে গেছে তার অপেক্ষাতে। দেয়ালের ঘড়িতে দম নেই ধুকে মরছে একাকী সময়। চাঁদের আলো সাদাকালো রঙ ছড়ায় ঘর জুড়ে তীব্র ফুলের গন্ধ। তুমি কই? আমার…