“ইশ” – এই আফসোস জনিত শব্দটি একটা সময় বাংলাদেশ দল যখন মোটামুটি খেলতে শিখেছে বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রেখেছে তখন অনেক বেশী করে উচ্চারিত হতো আমাদের মুখে মুখে। যেমন; ইশ যদি আজকে আশ্রাফুল আর ২০টা রান বেশী করতো? ইশ আজকে যদি পাইলট এমন করে অস্থির হয়ে আউট না হয়ে যেত তবে আরো ৩০টা রান বেশী হত। ইশ আমরা যদি আজকে টসে জিততাম? ইশ দলীয় রান যদি আর ৫০টা বেশী হত। ইশ শান্ত যদি আর দুইটা ওভার বেশী করতে পারতো?
সেই হাজারটা ইশ ছিল বলেই আজ বাংলাদেশ এক বাঘের আস্তানায় পরিনত হয়েছে। এই ইশ শব্দটা ছিল বলেই আজ এই ছেলেগুলো জান প্রাণ উজাড় করে খেলছে। ইশ শব্দটার মর্ম বুঝতে পেরেছে বলেই আজ আমাদের একজন সাকিব আল হাসান আছেন। আর গর্ব করে বলতে পারি আমাদের একজন কাপ্তান আছেন যিনি অন্য সবার চেয়ে আলাদা। শত যন্ত্রনা নিয়েও যিনি খেলে যাচ্ছেন অবিরাম। জয় যখন প্রায় নিয়মিত সেই সময়ে যিনি ভুলে যায়নি তাঁদের বিজয়কে এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে উৎসর্গ করতে।
আমার মনে আছে আমি নিজেও ফেইসবুকে লেখার খোঁচায় বাংলাদেশ দলকে অনেকবার জর্জরিত করেছি। অনেকবার মুখ ফুটে গালিও বের হয়েছে। কিন্তু এক বিন্দুও অনুশোচনা নেই আজ, কারন আমার মত হাজার হাজার খোঁচা, হাজারটা গালি ছিল বলেই আজ ওরা জলে উঠতে পেড়েছে।
গালি দিয়েছিলাম ঠিকই, খোঁচা মেরেছিলাম ঠিকই কিন্তু যখন ওরা বিজয় নিয়ে আসে আমাদের জন্য তখন আমাদের মনের অজান্তেই অন্তর থেকে এই বাঘদের জন্য আশীর্বাদ ঝরে পড়ে। চোখের কোনে এক ফোঁটা জলও জমে হয়ত। তবে তা অবশ্যই আনন্দের সাথে আশীর্বাদ মিশ্রিত।
অনেক আগে একটা সময় ছিল যখন ক্রিকইনফো তে গিয়ে খুঁজতে হতো বাংলাদেশের খেলোয়ারদের রান সংখ্যা কত? কত উইকেট আছে বোলারদের? কিন্তু সেই ক্রিকইনফোতে আজ যত ধরনের তথ্য আছে তার প্রায় প্রত্যেক ধরনের তথ্যের উপড়ের সারিতে চোখে বুলালেই সৌম্য, তামিম, নাসির, আর পুচকে মুস্তাফিজের নামও বড় বড় করে লেখা, আর সাকিব, মুসফিক, মাহমুদুল্লাহ, আর মমিনুলের ছবিতো ভুড়ে ভুড়ে।
চলো বাংলাদেশ, বিশ্ব জয়ে সামনে এগিয়ে চলো।