নোয়াখাইল্লারা চালাক, তাদের খুব বুদ্ধি, মাডির ১০০ আত তলে গেলেও এগুনরে হায়ন যাইবো, চান্দেও নোয়াখাইল্লারা পৌঁছে গেছে, কেউ ঠকাইতে আসলে উল্টা ঠকে যায় ইত্যাদি কথা, বিভিন্ন কৌতুক, মজার গল্প, ট্রল, মেমে কে বানায় জানেন?? কেনো বানায় জানেন?? খুবতো মজা পান, খুব চোখ পাকায়া বলেন দেকছস নোয়াখাইল্লা কি জিনিষ?? কিন্তু এটা ভাবেন না এইসব মজার ছলে সুক্ষভাবে আপনার আমার প্রিয় নোয়াখালীকে কটাক্ষ করা হচ্ছে। এভাবেই আমাদের পচানো হচ্ছে। এটুকু বুঝুন।
একটা দল সারাক্ষন ব্যস্ত আমাদের নোয়াখালীকে বিভিন্নভাবে হেয় করতে। বিভিন্ন কুট কৌশলে আমাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন সার্কাজম মিডিয়া, টিভি, ফেবু গ্রুপ প্রতিনিয়ত মজা করেই যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য সেই সকল মজার পোস্ট, লিংক, নিউজের নিচে যতো হা হা রিয়েক্ট পড়ে তার একটা বড় অংশ আমাদের নোয়াখালীর মানুষের। ঐ যে পাগল তিনবার হাঁসে- বুঝে হাঁসে, না বুজে হাঁসে আর সবার সাথে হাঁসে। আমরা এমনি বেকুব যে আমাদের দেশের নামঃ নোয়াখালী, রাজধানীঃ মাইজদি, কারেন্সিঃ টিয়া এই ধরনের ফাতরামি ধরনের ট্রলেও মজা পাই, শেয়ার করি আবার অনেকের ওয়ালে সেটা পোস্টও করি।
আমরা কি আসলে বুঝি কিসে আমাদের অপমান হয়? কি কথায় আমাদের আঘাত হয়? ঈদের আগে একটা বিমানের উপর নোয়াখালী এয়ারলাইন লেখা দিয়ে আমাদের ট্রল করা হয়, ঈদ ট্রেনে হাজার হাজার মানুষের ছবি দিয়ে বলা হয় এরা নোয়াখালী যাচ্ছে এগুলোও আমাদের গায়ে লাগে না আমরা খিক খিক করে হাঁসি এগুলো দেখে। আমরা কি আসলে?? নোয়াখালী বিভাগ চাই এটা এখন বাংলাদেশের জাতীয় ট্রল। কারা সুযোগ করে দিছে?? এই আমরাই!! যেখানে সেখানে গিয়ে কমেন্ট করে নোয়াখালী বিভাগ চাই, প্রথম দিকে বিভিন্ন লাইভে, খেলার লিংক, বিভিন্ন পোস্টের কমেন্টে গিয়ে আমাদের নোয়াখালীর একদল বেকুব ফেইসবুকার কিছু বুঝে না বুঝে সব খানে ঐ নোয়াখালী বিভাগ চাই কমেন্ট করে এটাকে একটা স্বস্তা বস্তুতে পরিনত করছে।
ব্যাচেলর পয়েন্ট দেখে যারা খুব গদগদ হয়েছেন, পলাশের চরিত্র দেখে নিরেট আনন্দ নিয়েছেন তারাও বুঝতে পারেন নি আসলে বা গায়ে মাখেন নি যে কাবিলার চরিত্র আমাদের জন্য গর্বের কিছু না বরং আমাদের নোয়াখালীকে ভীষণভাবে কটাক্ষ করা হয়েছে। কাবিলা ঐ নাটকে খুব ধুরন্ধর একজনের চরিত্রে অভিনয় করেছে সে বিভিন্ন জনকে মিথ্যা, এবং বিভিন্ন ভাবে ঝামেলায় ফেলেছে যা দেখে আপনি মজা পেলেও আমি পাইনি এমনকি একজন সত্যিকারের নোয়াখালীর মানুষ তাতে কোন ভাবেই আনন্দ নয় বরং আঘাত পেয়েছেন। ভাই আগে বুজতে শিখুন যে কিসে অপমান হয় আর কিসে হয় না?? না হয় ঐ গল্প সত্যি হয়ে যাবে- একজনের কপালে গুলি লেগে মারা গেছে আরেকজন দেখে বলে আল্লাহ বাচাইছে গুলি চোখে লাগে নাই, তাইলে বেচারা অন্ধ হয়ে যাইতো।
একটা কৌতুক কাল থেকে খুব চলছে- জুতার দোকানী চালাকি করে অন্য সাইজের জুতা দিয়ে এক মহিলাকে টাকাসহ ফিরিয়ে এনেছে। এই আনাতে ক্রেডিটের কিছু নাই এখানে আমাদের জেলার জন্যসুখের কিছু নাই বরং আপনাকে চতুর বা চালাক হিসাবে প্রচার করা হয়ে গেলো, আপনাকে জুতার দোকানী বানানো হয়ে গেলো, আপনাকে ধুরন্ধর ধান্ধাবাজ ব্যবসায়ী বানানো হয়ে গেলো। এই ধরনের পোস্ট নিজে শেয়ার করে আদতে আপনি বা নোয়াখাইল্লারা চালাক এটা প্রমানের কোন দরকার নাই বরং এতে আপনার নেতিবাচক ব্র্যান্ডিং হয়ে গেলো।
নিজের ভালো নাকি পাগলেও বুঝে এটা অন্তত ভুল প্রমানিত আমাদের জেলায়। কারন আমরা কথার সাথে বলি এই আছে আমাদের ঐ আছে আমাদের, সবখানে আমাদের জেলার লোক লিডিং পজিশনে আছে, নেতা, এমপি, মন্ত্রী, সেনা প্রধান, স্পিকার সহ এই ঐ কতো কতো ক্ষমতাশালী ব্যক্তি আমাদের জেলার আমরা গর্ব করি কিন্তু আসলে কি তারা থাকাতে আমাদের কোন লাভ হয়েছে? কি পেয়েছেন গতো ২০ বছরে বা তারো বেশি সময়ে?? একটা তালিকা করতে পারবেন?? কি আছে আপনার জেলায় যা অন্য জেলায় নাই?? কোন দিকে আপনি আগানো একটু দেখাতে পারবেন? যাতায়ত, শিক্ষা, চিকিৎসা, পর্যটন, খেলাধুলা কিসে ভাই?? আছে কিছু গর্ব করার মতো?? তাইলে কি লাভ হলো ঐ তালিকার কোথায় নোয়াখালীর কে লিডিং পজিশনে আছে?? আপনার কি আছে আর আপনার কে আছে এই দুই তালিকা মিলালেই বুঝে যাবেন যে পাগলেও নিজের ভালো বুঝে এটা মিথ্যা কথা, মিথ্যা প্রবাদ।।