করোনা ভাইরাসের প্রভাব

ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ব্যক্তি, সংসার ও সমাজ জীবনে। বাচ্চারা ভীষন খিটখিটে হয়ে গেছে। গত ১০ দিন আমার বাচ্চা ঘরের বাইরে যায় না। ও থাকে ডে কেয়ারে সেখানে অনেকগুলো বাচ্চার সাথে থাকে। তাই তার সারাদিন কাটে বিভিন্ন এক্টিভিটির মাধ্যমে। বাসায় বন্ধী, খুব রাগ করে সে এখন কথায় কথায় জেদ দেখাচ্ছে। ঠিকিতো একই রূটিনে কতো চলা যায়? নিজের মানসিক অবস্থাও তাই। সহজ কথা নিতে পারছি না। কেমন জানি বিরক্ত লাগে।

বাজারে গেলাম, আজ বুঝলাম এই অবস্থা আর ১০দিন চললে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত, আর তা না হলেও আপনি টাকা নিয়ে বসে থাকবেন কিন্তু কেনার মতো কোন পণ্য পাবেন না। প্রায় সব দোকানে পণ্যের বড় ঘাটতি। বাজার মনিটরিং নাই কনফার্ম, প্রায় প্রতিটা পণ্যের দাম বেশ চড়া। সরকার বলছে যথেষ্ট পন্য মজুত আছে তাহলে হয়ত মজুতদার কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। আসলে এটা সাধারন ক্রেতার বোঝার কথা না। সামনে আসছে রোজা, সেরের উপর সোয়া সের। কি অবস্থায় দাঁড়ায় সত্যিই ভয় লাগছে।

করোনা ভাইরাস পুরো জীবন চক্র এলোমেলো করে দিবে কনফার্ম। গরীব আরো গরীব হবে। মধ্যবিত্ত মাঝের ফাঁকে পড়ে খাবি খাবে ওই মানিয়ে নেয়ার তালে। এতোমধ্যে মাসিক খরচ গত মাসের থেকে প্রায় ৫০০০/- বেড়েছে শুধুমাত্র দ্রব্যমূল্যের কারনে। বেতন কিন্তু ঐ একই পেয়েছি। আবার যারা দিনমজুর তারাতো কাজই পাচ্ছে না বাড়তি দ্রব্য মূল্যের ভার বইবে কি করে?

সরকারের কঠোর নজরদারী, সিস্টেমে পরিবর্তন, আইন প্রতিষ্ঠা, বাবসায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বিশেষ করে তাঁদের মানবিক হতে উদ্ভুদ্ধ বা বাধ্য করা ও সরকার কর্তৃক প্রচুর ভর্তুকী দিয়ে হলেও এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে বা সহনীয় অবস্থায় রাখতে হবে। আর একটা বিষয় নিয়ে ভাবার সময় এসেছে এই যে সারা বিশ্বের একটা বিশাল পরিমান অর্থের মালিক গুটি কয়েক লোক, এই খানটায় লাগাম বা এমন কিছু করতে হবে যাতে ব্যালেন্স হয়। মোদ্দাকথা এই ব্যবস্থাটায় একটা ধাক্কা দিতে হবে।

যে অবস্থা সারা বিশ্বজুড়ে তাতে খুব সহজেই যে এই অবস্থার অবসান হবে না তা যে কেউই অনুমান করতে পারছে। তার মানে আগামী ২মাস বা ৩মাস বা তারো বেশি একই অবস্থা হলে কি দাঁড়াবে বিশ্ব অর্থনীতির বা বাংলাদেশের? ভাবুন হয়ত করোনা ভাইরাস আমাদের খুব একটা ক্ষতি করতে পারবে না তবে তার ধাক্কা সামলানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য।

(Visited 1 times, 1 visits today)