দেশের প্রতি আমাদের দায়

পুলিশ ডান্ডা নিয়ে আসলো সবাই ছত্রভঙ্গ, পুলিশ চলে গেলো সবাই উৎফুল্ল।

আমরা কিন্তু সচেতন!!! আর এটাই হলো সারা দেশের সচেতনতার সব থেকে কমন নমুনা। এটা কিন্তু শুধু এক এলাকায় না বরং সারা দেশের চিত্র একই।

এরা কিন্তু কেউই দিন মজুর না, কেউই এক বেলা না খেয়ে থাকা পাবলিক না। বরং এরা করোনার কারনে লক ডাউন হওয়া পাবলিক, যারা ঈদের আনন্দ করতে আসছে গ্রামের বাড়ি। এরা হলো উলালে নাচা পাবলিক। আবার দেখবেন এরাই ফেসবুকে ঝড় তুলে, বড় বড় বুলি আওরায়, সরকারের পিন্ডি চটকায় – লক ডাউন দিলে গরিবে খাবে কি? বাইরে না যেতে দিলে মানুষ বাঁচবে কি করে?

যারা গরিব, দিনমজুর, খাবারের সন্ধানে আছে তারা কখনোই রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দেয় না, ক্রিকেট-ফুটবল খেলে না, অর্ধখোলা দোকানের শাটারের চিপাচাপা দিয়ে নিয়ে চা-বিড়ি খায় না, কেউই রাস্তায় দাঁড়াই নাটক দেখে না, কেউই আর্মি বা পুলিশের গাড়ি চলে যাবার পর হৈ হৈ করে আবার বেরিয়ে আসে না। যারা এমনটা করছে তারাই মূলত এই দেশের জন্য এই মুহুর্তে সব থেকে বড় প্রতিবন্ধকতা, বোঝা। এরা এককথায় সরকারের সিস্টেমের তোয়াক্কা করছে না, এরা ভাবছে যা ইচ্ছে হয়ে যাক আমার কি? সব দোষ ঐ নন্দ ঘোষ সরকারের। কিন্তু সরকারের নির্দেশ আবার এরা মানবে না। মানে মামার বাড়ির আব্দার।

এদের কিন্তু কারোই হুশ নাই যে ইতোমধ্যে ২১-৩০ বছর বয়সীরা সব থেকে বেশি আক্রান্ত বাংলাদেশে, কেবল মাত্র এই অতি উৎসাহ আর উলালের ঠ্যালায়। সারা বিশ্বের আর কোথাও এই বয়সীদের আক্রান্তের হার এমন না। কারন তারা আইন মানে, নির্দেশ মানে, ভয় করে, বুঝতে পারে এই রোগের গভীরতা কি, জানে এর আফটার ইফেক্ট কি? যা হবার হচ্ছে যার চরম মূল্য দিতে হবে এই উলালে নাচা পাবলিকদের আর কটা দিন পর। এই খামখেয়ালী আর মুই কি হনু টাইপ আচরণের কারনে ইতোমধ্যেই অনেকের শরীরে করোনা আক্রমন করে বসে আছে হয়ত, তারুন্যের রক্ত গরম বিধায় আঁচ করতে পারছে না। যতোই দিন যাবে আর যখন সঠিক ভাবে টেস্ট করাবে তখন বোঝা যাবে মূল অবস্থা কি!!

ইউরোপ আমেরিকায় যখন ৪০ দিনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ১০০-৪০০ সেখানে আমাদের দেশে ১৮০০ এর বেশি ঐ সকল দেশে এখন চলছে প্রায় ৯০দিন, তাতে গিয়ে তাদের আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংখ্যাটা জেনে নিতে টিভির স্ক্রলে চোখ দিলেই হবে। আর একই সাথে স্রস্টাকে স্মরণ করে আমাদের ৯০তম দিনের জন্য মাফ চেয়ে নেন। যতই টেস্টের সংখ্যা বাড়বে ততোই রোগীর সংখ্যা বাড়বে। আর বাংলাদেশের জন্য সব থেকে ভয়ের বিষয় যা তা হলো আক্রান্তের তুলনায় সুস্থ হবার সংখ্যা একেবারেই কিন্তু কম।

এখনো সময় আছে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে নিজের সুস্থতার জন্য পরিবারের মানুষগুলোর সুস্থতার জন্য দয়া করে ঘরে থাকুন। রাস্তায় বের হয়ে বা এলাকায় থেকে সার্কাস দেখা বা নিজে সার্কাসের জোকার সাঁজার দরকার নেই। ঘরে থাকার কোন বিকল্প নাই। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া টোটকা, গুজব আর অশিক্ষিত মানুষের মতো কচুপাতার পানি, বাচ্চার কথা বলা, থানকুনি পাতা, আকাশ থেকে পড়া বিচি, লাল চা এইসবে বিশ্বাস করে করোনা থেকে বাঁচা যাবে না। গেলে বহু আগেই ইতালির মারুফ মামুন না কি জানি নাম সে এসে স্বপ্নে প্রাপ্ত সুত্র দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে দিতো।

(Visited 1 times, 1 visits today)