মোহাম্মদ বাবুল

আসেন একটা গল্প বলি, এক দেশে ছিল এক রাজা, রাজার ৩ ভাই ৪ বোন রাজা ভাইদের মধ্যে ২য়, রাজার বাবা একসময় রাজা ছিলেন, ছিলেন অনেক বড় যোদ্ধা, কিন্তু অনেকদিন ধরেই রাজার বাবা আবার যুদ্ধাহত। তাই রাজার উপর সকল দায়িত্ব, তার বাবা যুদ্ধাহত বলেই তাকে বরন করতে হয়েছে রাজার আসন। এতোটুকু হলে হয়ত আর দশটা গল্পের মতোই শেষটাও হতো।

আসেন এবার অন্য একটা গল্প বলি। মোহাম্মদ বাবুল ১৬ বছরের এক তরুন, একজন যোদ্ধা সে, হ্যাঁ জীবন যুদ্ধের অকুতোভয় যোদ্ধাই। যাকে খুঁজে পাওয়া যাবে ঢাকা – সিলেট মহা সড়কের হোটেল রাজমনি’র গাড়ি পারকিং’র সামনে ঢিলাঢালা সবুজ রঙের ড্রেস পড়া, মাথায় টুপি, ডান পা খুরিয়ে হেলে দুলে হাটে। সে এই হোটেলের একজন নিরাপত্তা কর্মী। এবার উপরের রাজার গল্পটা মিলিয়ে নিন নিচের গল্পের বাবুলের সাথে। হ্যাঁ ও রাজার চেয়ে কোন অংশে কম না। ও যুদ্ধ করে নিজের সংসার নামের রাজ্যটাকে সুরক্ষিত রাখে।

ছেলেটাকে দেখেই কথা বলতে মন চাইলো, জানিনা ঠিক কেন? কাছে ডেকে নিলাম-
কি নাম তোমার?
ছেলেটা – বাবুল, মোহাম্মদ বাবুল।
পড়ালেখা করছো?
জিনা, আব্বা হাপানীর রুগি, আগে আব্বা কাম করতো, এখন আর পারে না হের জন্যেই পড়া হয় নাই, (লজ্জা পেল খুব সে।)
এখানে কি কাজ কর?
এই, গাড়ি আসে বাশি বাজাইয়া সাইড করি।
বেতন কত দেয়?
৩৫০০টাকা
কতক্ষণ কাজ?
সকাল ৯টা থেইকা রাইত ৯টা।
ভালো লাগে?
জিনা, কি করমু? আব্বা অসুস্থতো।
অন্য কাজ খুজো নাই?
যে না।
কোথাও ভালো কাজ পেলে যাবা?
জি যাবো, (কিন্তু ওকে খুব কনফিউজ মনে হলো, বুঝতে পারলাম না)
বাড়ি কই?
কিশোরগঞ্জের, মালেক খালি গ্রামে।
– একটা গ্রীন লাইনের বাস এসে থামলো, খুড়িয়ে খুড়িয়েই দৌড়ে চলে গেলো বাঁশি বাজাতে বাজাতে ঐ গাড়ির মানুষ গুলোকে পথ দেখিয়ে দিবে সেই জন্য, একটু অবাক হলাম, কাজে ফাঁকি দেয়নি সে, ঠিকই চলে গেছে তার দায়িত্ব পালন করতে। এরপর সে দূরে দাঁড়িয়ে আমাকে দেখছে কিন্তু দোটানায় কাছে আসছিল না, তারপর কি মনে করে আবার এসে দাড়ালো।
আমার পড়া লেখা হয়নাই, বললো মন খারাপ নিয়ে।
আমি যদি কোন কাজের ব্যবস্থা করি যাবা?
যে যাবো।
এই ধরো পিয়ন বা টুকটাক কাজ করে দেয়ার জন্য কোন অফিসে?
যে যাবো, (এইবার তাকে কনফিডেন্ট লাগলো)
সে আমাকে অবাক করে দিয়ে বলে স্যার একটা কফি খান?
আমি না বললাম,
সে বলে তাইলে একটা ঠাণ্ডা খান?
আমি আবার না বললাম, সে কিছুতেই না খাইয়ে ছাড়বে না। আমি শেষে তাকে বললাম যদি তোমার কিছু হয় আমি তখন খাবো। সে খুব খুশি হলো।
তাকে বললাম তোমার ছবি তুলে নিয়ে যাবো, কি যে সরলতা, খুশি হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো পোজ দিয়ে। শেষে তার যোগাযোগের নম্বর নিয়ে নিলাম। চলে যাচ্ছিলাম বাবুল তাকিয়ে ছিলো, সহজ সরল দৃষ্টি নিয়ে।

আমি জানি ওকে আমি কথা দিয়েছি ঠিকই কিন্তু হয়ত কিছুই করতে পারবো না। আমি ক্ষুদ্র মানুষ, ইচ্ছে আছে সামর্থ্য নেই। তাই আমি লিখলাম যদি আমার লেখার দ্বারা কেউ এগিয়ে আসেন। ছেলেটা সৎ কারন দায়িত্ব অবহেলা করেনি। ছেলেটা সরল কারন সে যেভাবে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল সহজ ভাবে। আমি জানি হয়ত এই লেখাও কোন কাজে আসবে না বা আসবে তবে আমি তাকে খুঁজে নেবোই আবার। চেষ্টা করবো কিছু একটা করার। বাবুলের চেয়েও অসহায় অনেকেই আছে কিন্তু বাবুল মন জয় করে নেয়া একজন রাজা। সুযোগ পায়নি বলে হয়ত সাকিব আল হাসান হতে পারেনি। পারেনি মিরাজ বা মুস্তাফিজ হতে। তাই সুযোগটা যদি কেউ দেয় হয়ত দুবেলা ভাতটা অন্তত খেতে পাবে পেট পুরে।

চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন, কোন কাজ দিতে পারেন, পড়া লেখা জানেনা খুব একটা।
মোহাম্মদ বাবুল
ফোনঃ ০১৭৫৬৬৬৪৮৬৩
কর্মস্থলঃ হোটেল রাজমনি, ব্রান্মনবাড়িয়া

(Visited 1 times, 1 visits today)