বিশ্বাস

চায়ের মধ্যে যখন স্বর ভাসে সে চা পান করার একটা আলাদা মজা আছে। স্বর দেখে মনের মধ্যে একটা বিশ্বাস জন্ম নেয়, গরুর দুধের চা পান করছি। যদিও হয়ত সে দুধ গরুর না গুড়া দুধ, তবুও অনেকটা সময় ধরে জ্বাল দেয়াতে তা গরুর দুধের রঙ ধারন করেছে। আবার একদিন শুনলাম ঢাকায় অনেক দোকানে নাকি গুড়া দুধকে তরল করে জ্বাল দেয়া হয় তারপর তাতে দেয়া হয় টিস্যু পেপার সেগুলো ফুটতে ফুটতে এক সময় স্বরের আঁকার নেয়। আর আমরা সেটা স্বর ভেবেই খেয়ে যাচ্ছি। আবার তালাশ নামে একটা অনুষ্ঠান হয় কোন এক চ্যানেলে সেখানে দেখলাম গাজীপুরে এক রেষ্টুরেন্টে নাকি শিয়ালের মাংশ দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করে খাসির বিরিয়ানি বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এইগুলো বিশ্বাস, যা মনের মধ্যে আপনা আপনি তৈরি হয় যায়, কিছুটা দেখায় কিছুটা অদেখায়।

অনেকদিন ধরে বাসে ঝুলে ঝুলে, হাজারটা ঝক্কি ঝামেলা সহ্য করে যে মানুষ অফিস বাসা অফিস বাসা করছে সে হুট করে একদিন ঘর থেকে বের হয়েই ফাঁকা বাস, ফাঁকা রাস্তা পেয়ে গেলে ভাবে; খাইছে কোন সমস্যা না তো? এইটা অদ্ভুত অবিশ্বাস।

বাসা থেকে খুব দৌড় ঝাঁপ করে বের হন প্রতিদিন আর বের হয়েই সিএনজি বা গাড়ি খোঁজার মিশনে নাম লেখান, হাতে পায়ে ধরেও মামারে রাজি করানো যায় না। যেন রাস্তাতে জমিদার তারা। ইচ্ছে হলে যাবে না হলে না এমন ভাব তাদের। কিন্তু ধরেন হুট করে একদিন দেখেন পাশে দাঁড়ানো সিএনজি ওয়ালা আপনাকে নিজ থেকে বলে মামা আসেন কই যাবেন মিটারে যামু। এইটাকে বলে বিশ্বাসে ধাক্কা খাওয়া।

পত্রিকাটা হাতে পাবার পর প্রথমেই চোখ যায় প্রথম পাতায়। মনের অজান্তে খুঁজতে থাকেন আজ কোথায় কতজন মারা গেলো? কত ভয়ংকর ভাবে মারা গেলো? কয়টা ধর্ষণ হলো, কিভাবে হলো? পত্রিকায়ালাদের লেখনির জাদুতে খারাপ আর ভয়ংকর খবর গুলোকে মনে হয় যেন ফেলু মিত্তিরের লোমহর্ষক কাহিনি। মনের ভেতর এমন লেখা পড়ার জন্য একটা পরিবেশ তৈরি হয়েই থাকে। এইটাকে বলে ভয়ংকর বিশ্বাস।

এই সবই আপনার আমার বিশ্বাসের ভিন্নতা যা অনেক দিন ধরে তিল তিল করে তৈরি হয়েছে, যার বাইরে আপনার আমার চিন্তা করারও যে কিছু আছে তা ও হয়ত এতোদিনে ভুলেই গেছি আমরা। সমাজ, অপরাধী, দেশ আর রাজনীতির ভয়ংকর খেলায় মত্ত মানুষ। এ সবই মেনে নিয়েছি সবাই। আর হয়ত এটিই আমাদের অন্ধ বিশ্বাস।

আর এতক্ষণ আপনিও আমার লেখা পড়ে মেনেই নিয়েছেন যে ও যা লিখলো, ঠিকই তো, এটাতো আমিও জানি, এটাই আমার বিশ্বাস।

দেখলেন নতুন ভাবে ভাবাও অনেক কঠিন, কিন্তু সবার মঙ্গলের জন্য হলেও হয়ত ভাবতে হতে পারে ভিন্ন ভাবে, আসলে একটাই কথা “বাক্সের বাইরে গিয়ে ভাবতে হবে।” (Think out of the box.) 😀 না হয় নিজের উন্নতি তো হবেই না পরের ও না শেষে এসে আত্মবিশ্বাস হারানো ছাড়া উপায় থাকবে না।

(Visited 1 times, 1 visits today)