ঢাকা শহরের রিক্সার সিটগুলো এতো ছোট কেন? শরীরকে মেলা সামঞ্জস্য করে বসতে হয়। বারবার এ্যডজাস্ট করে নিতে হয় কম্পিউটারে রিফ্রেস বাটন চাপার মত। আর এদিক থেকে মফস্বলের রিক্সাগুলো বেশ বড়সড়। আয়েশ করে বসা যায় একটা ভাব ও আসে রিক্সায় বসলে।
ঢাকা শহরে মোট গনপরিবহণ দরকার ১৮ হাজার কিন্তু বর্তমানে আছে মাত্র ৪ হাজার। তাতেই জ্যামের কি করুন অবস্থা বোঝেন। এইবার ভাবেন তো আগামী এক বছরে যদি এই ৪ হাজার ৮ থেকে ৯ হাজারে পৌছায় তাইলে কি হবে? গাড়ি সব রাস্তায়ই দাঁড়িয়ে থাকবে সামনে আর চলতে হবে না।
সকাল বেলা অফিস করতে বের হই ৭.১০ এ ঘরে ফিরি রাত ৭টায় অফিস বেতন দেয় ৮ ঘন্টার জন্য। বাকি ৪ ঘন্টার টাকা কে দিবে? আর এইযে অমানুষিক কষ্ট কি দিয়ে লাঘব হবে? ঘন্টার পর ঘন্টা ঝিম মেরে বসে থাকা। সংসার, সন্তান, মা বাবা কাউকে সময় দেয়া হয় না। দিন দিন অসামাজিক হয়ে যাচ্ছি আমরা, তবুও রক্ষে মোবাইল, রেডিও, ফেইসবুক আছে না হয় এই যাত্রা পথের কষ্টে মানুষ অনেক আগেই মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে যেত।
সরকার টাকা বাড়ায় সরকারী চাকুরীজীবীদের কিন্তু সেই কুফল পড়ে সবার উপরে। দ্রব্যমুল্যে তো আর সরকারী চাকুরে দেখে বাড়ে না। তাইলে সরকার যখন বেতন বাড়াবে সাথে সাথে বাকি সবাইকে একটা নির্দিষ্ট পরিমান বাড়াতে বাধ্য করতে হবে।
ফুটপাতে হাটা যায় না। খেয়াল করে দেইখেন একটানা ২ – ৩ মিনিট কোন ফুটপাতে আপন মনে হাটতে পারবেনই না। কারো না কারো সাথে আপনার ধাক্কা লাগবেই। মানুষের পরিমান এতো বেশি যে তা উপচে পড়ার মত অবস্থায় পৌঁছেছে।
কেউ কোন নিয়ম মানে না। কি অদ্ভুত শহর। ৯৫% অনিয়ম নিয়ে সুন্দর চলেও যাচ্ছে প্রত্যেকটা দিন। এতো বেশি সহ্য ক্ষমতা আমাদের ভাবাই যায় না। রেকর্ড বুকে বাংলাদেশের নাম থাকা উচিত সবচেয়ে সহনশীল জাতি হিসাবে।
হিসেব করে দেখলাম এই শহরে চা দোকানে সবচেয়ে বেশি ভির। বেশ বিক্রিও আছে দেখলাম। দিনে ৬ টাকা দরে ১ হাজার কাপ চা বিক্রি হলে সব কিছু বাদ দিয়ে ৪ হাজার ৭-৮শ টাকার মত লাভ থাকে বাকি সবকিছু বাদ দিয়েই হিসেব করলাম। খালি চা দোকান না রাস্তায় বেচা যেকোন দোকানই বেশ ভালো চলে। চলবে নাই বা কেন এতো মানুষ বিক্রি হবেই।
ঢাকা ফাঁকা করতে হলে কয়েকটা কাজ করলেই যথেষ্ট মনে করি।
১। সব গার্মেন্টস গুলোকে ঢাকার বাইরে নিয়ে যেতে হবে। তাতে করে একটা আলাদা জোন হবে সাথে সাথে ওই এলাকাও উন্নত হয়ে যাবে।
২। যে সব মন্ত্রনালয়গুলোতে লোকজন বেশি আসতে হয় তা ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।
৩। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরিয়ে ফেলে একটা নির্দিষ্ট যায়গায় শিক্ষা জোন করে দিতে হবে।
৪। বাস টার্মিনাল আর প্রধান রেলষ্টেশন শহরের বাইরে নিয়ে যেতে হবে। ট্রাম বা ছোট ছোট মেট্রো রেলের ব্যাবস্থা করতে হবে।
৫। প্রাইভেট গাড়ির লাগাম টানতে হবে।
এই কয়টা কাজ করলে মনে হয় ঢাকা আবার ফাঁকা হয়ে যেতে পারে। আমি বোদ্ধা নই, তবে এইটুকুতো বোঝাই যায়।